• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :

প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বোরোবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী দিপু চন্দ্র রায়ের বাবার মৃত্যুকে দায়ী করে প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না সিদ্দিকার পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টার সময় উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। উক্ত মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি সমাবেশ করে এবং পরে প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে রাখে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমাধানের আশ্বাসে প্রায় ১ ঘন্টা পর তালা খুলে দেওয়া হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা হয়। পরে তদন্ত কমিটির দুই সদস্য এবং ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পেশ করলে,আগামী রবিবারে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এর আগে গত (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না সিদ্দিকাকে টিজের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী দিপু চন্দ্র রায়কে ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন প্রক্টর। বিনা অপরাধে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা আটক রাখে দিপুকে। এ খবর তার বাবা শুনলে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায় বলে জানা গেছে। এমন স্বেচ্চাচারী প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে গত ১৪ এপ্রিল হতে ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রক্টর( চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না সিদ্দিকাকে অপসারণ করা হয় নি কিংবা কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত সোমবার( ১৭ এপ্রিল) ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। সেখানে উল্লিখিত ছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রক্টর( চলতি দায়িত্ব) মীর তামান্না সিদ্দিকার অপসারণ না হলে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। তারই প্রেক্ষিতে কোন ফলাফল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে। উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, দিপুর বাবার মারা যাওয়া আজ ৭ দিন হল। ইতোমধ্যে ৪বার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেও কোন ফলাফল আমরা পায় নি। আজ বৃহস্পতিবার হতে প্রশাসনিক ভবন অনির্দিষ্টকালের জন্য তালাবদ্ধ থাকবে এবং প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।কিন্তু কর্তৃপক্ষ সমাধানের আশ্বস্ত করলে অস্থায়ীভাবে তালা খুলে দেওয়া হয়। আর যদি রবিবারে সিদ্ধান্ত না জানা হয়।তাহলে রবিবারের পর হতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.একে এম নূর-উন নবী বলেন, ইতোমধ্যে একটি ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দিবে,সেই সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের তদন্ত কমিটির অন্তর্ভুক্ত করেছি। তাছাড়া তদন্ত কমিটির সদস্যদের যতদ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ